✪শিকড়ের কাছে ফিরে দেখা✪

১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের ০১ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার ১২ নং শ্যামকূড় ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী হালসা গ্রামের এক সাধারণ সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম আমার। আমার পরিচয়: নাম-মোঃ আব্বাস উদ্দীন।  একজন অবসরপ্রাপ্ত  কলেজ শিক্ষক। সংবাদকর্মী, মানবাধিকার ও সমাজকর্মী। পিতা মোঃ রওশন আলী সরদার এবং মাতা মোছাঃ জবেদা খাতুন। তিন ভাই,চার বোন মোট সাত ভাই-বোনের  মধ্যে তিনি দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে পিতার বড় সন্তান। অল্প জমি-জায়গা চাষাবাদ করে কৃষক পিতা সংসারের খরচ যোগান দিয়েছে এবং সন্তানদের মানুষ করেছেন। মা-বাবা সাত ভাই-বোনের পরিবারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। কিন্তু সেই অভাব অনটনের পরিবারে  ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন এবং স্বপ্ন দেখার সাহস। স্বল্প শিক্ষিত দরিদ্র পিতা একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ছিলেন।  সন্তান শিক্ষিত করতে চেষ্টা করেছেন কিন্তু সীমাবদ্ধতা ও দারিদ্রতার কারণে সব সন্তানকে উচ্চ শিক্ষিত করতে পারেননি। তবুও তিনি সফল। দুই সন্তানকে মাষ্টার্স পর্যন্ত লেখা-পড়া শেখাতে পেরেছেন। আমি কলেজের শিক্ষক আর ছোট বোন সাজেদা খাতুন একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক।  

আমার শৈশব কেটেছে গ্রামের কাদামাটির সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশে। যেখানে আজকের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বলতে যা বোঝায় তার লেশমাত্র ছিল না। দরিদ্র পরিবারেই আমার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। দারিদ্রতাকে জয় করতে সেই ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার ফাঁকে বাবার সাথে সংসারের কাজে সাহায্য করা এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে শিখেছিলাম সেই শৈশবকাল থেকে।  বাবার সাথে সংসারের কাজে সহযোগিতা করা, গৃহপালিত পশু বিশেষ করে গরুর খাবার যোগাড় করা, মাঠে ছাগল-গরু চরানো; যা ছিল আমার শৈশবের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ।

ছোটবেলায় গরু-ছাগল চরানো কিংবা বাবার কাজে সহযোগিতা করা আমার কাছে কোনো বোঝা মনে হতো না। বরং সেসব কাজের মধ্যেই জীবনের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল। মাটির কাছাকাছি থেকে আমি শিখেছিলাম পরিশ্রমের মূল্য, দায়িত্ববোধ এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা। অভাব আমাকে হয়তো অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে, কিন্তু সেই অভাবই আমাকে বাস্তব জীবন চিনতে শিখিয়েছে।

তবে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, পড়াশুনা করা আর সাংসারিক কাজ দায়িত্বের মধ্যে আমার শৈশবকাল সীমাবদ্ধ ছিল, তা নয়। সুযোগ পেলেই  ছুটে যেতাম সহপাঠীদের নিয়ে মাঠে।  গ্রামীণ খেলাধুলাই ছিল আমাদের আনন্দের অন্যতম প্রধান উৎস। ফুটবল, হাডুডু, দাড়িয়াবাধা, গোল্লাছুট, কানামাছি ও মার্বেল খেলা-কত রকম খেলাই না ছিল আমাদের!  সামান্য জায়গা, কয়েকজন বন্ধু আর একটু অবসর এই ছিল আনন্দের জন্য আমাদের প্রয়োজন।

মনে পড়ে, খেলার মাঠে হার-জিত নিয়ে কত উত্তেজনা, কত হাসি-আনন্দ! তখন খেলাধুলার জন্য কোনো দামি সরঞ্জাম প্রয়োজন হতো না। মাঠটাই ছিল আমাদের খেলার ঘর, বন্ধুরাই ছিল আমাদের সঙ্গী। 

শৈশবের সেই দিনগুলো এখন অনেক দূরের স্মৃতি। সময় বদলেছে, জীবন বদলেছে, আমিও বদলেছি। কিন্তু আমার জীবনের ভিত গড়ে উঠেছে সেই হালসা গ্রামের মাটিতে, সেই অভাব-অনটনের সংসারে, বাবা-মায়ের স্নেহে এবং গ্রামীণ জীবনের সরলতায়।

পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাগুলো আমি হয়তো কোনো বই থেকে পাইনি; পেয়েছি আমার পরিবার থেকে, মাটি থেকে, পরিশ্রম থেকে এবং শৈশবের সেই ছোট ছোট অভিজ্ঞতা থেকে।

আমার জীবনের দীর্ঘ পথচলার শুরু হয়েছিল একটি অসচ্ছল পরিবারের সন্তান হিসেবে, বাবার কাজে সহযোগিতা করতে করতে, গরু-ছাগল পালন করতে করতে এবং সুযোগ পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে ছুটে গিয়ে খেলতে খেলতে।

ছোট্ট গ্রামের সেই ছেলেটিই একদিন জীবনের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে তখন হয়তো তা কল্পনাও করতে পারেনি।

আত্মজীবনী লিখতে মূলত নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম, সাফল্য ও উপলব্ধি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা। যেটি  উপস্থাপন করাটা আমার কাছে দুঃসাহসই হবে। তবুও নিজের উপলব্ধিতে যেগুলো উপস্থাপন করলে খুব বাড়িয়ে কিছু বলা হবে না; এমন ভাবধারা নিয়ে নিন্মের শিরোনামে সংক্ষেপে তুলে ধরলাম।

✪ভূমিকাঃ প্রতিটা মানুষের জীবন স্মৃতিময়। জীবন নামের ঘড়িটার প্রতিটি সময় অতিক্রান্ত হয় আর একেকটি ঘটনার জন্ম দেয়। সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না, ব্যথা-বেদনা,বিরহ-যন্ত্রনা,রাগ-বিরাগ,মান-অভিমানে ভরা জীবনে যা কিছু অর্জন তা নিছক আমার জীবন সংগ্রামেরই ফসল। আমার সংগ্রামী জীবনের গল্পকথা লিপিবদ্ধ করার ক্ষুদ্র এ প্রয়াসটি পাঠক সমীপে সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমার আত্মজীবনী লেখার প্রকৃত উদ্দেশ্য। ত্রুটি-বিচ্যুতি মার্জনীয়। 

✪নিজের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ নামঃ মোঃ আব্বাস উদ্দীন, পিতাঃ মোঃ রওশন আলী সরদার(পরলোকগত),মাতাঃ মোছাঃ জবেদা খাতুন (পরলোকগত), জন্মস্থানঃ গ্রাম-হালসা,ডাকঘর-কাশিপুর,উপজেলা-মণিরামপুর,জেলা-যশোর।

জন্মতারিখঃ ০১ সেপ্টেম্বর ১৯৬৬ খ্রিঃ

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

ধর্মঃ ইসলাম(সুন্নী)

✪শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এমএসসি(প্রাণিবিদ্যা), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সেশন-১৯৮৮ খ্রিঃ  (সেশন জটের কারণে ইয়ার লস): পাশের সাল-১৯৯১ খ্রিঃ

✪পেশাঃ কলেজ শিক্ষক

★কর্মস্থলঃ জীববিজ্ঞান বিভাগ, মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, যশোর। 

★সর্বশেষ পদবীঃ সহযোগী অধ্যাপক। 

★অবসর জীবন শুরুঃ ০১/০৯/২০২৬খ্রিঃ

✪পরিবার পরিচিতিঃ ১৯৯৩ সালের ২৭ মার্চ মোসাঃ মাহমুদা খাতুন (ঝরনা)কে পেয়েছি জীবনসঙ্গী হিসেবে। ০১/১০/১৯৯৫ইং তারিখে জন্ম গ্রহণকারী ¯œাতক ডিগ্রি ধারী সহধর্মীনি মাহমুদা খাতুন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।  দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তান তিন জনই এখনও শিক্ষাজীবনে আছে। বড় সন্তানঃ আবু শাহরিয়ার লিপন ঢাকার নর্দান ইউনিভার্সিটিতে ইলেক্ট্রিক্যাল ইলেকট্রোনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ালেখা করে। এ বছরই তার সমাপনি পরীক্ষা হবে। ছোট ছেলে তাসনিম আহম্মেদ ইমন ঢাকার ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বিএসসি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে তার ফাইনাল পরীক্ষা। একমাত্র মেয়ে আফসানা পারভীন মালিহা মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। 

✪শিক্ষাজীবনঃ

★প্রাথমিক শিক্ষাঃ ৫ম শ্রেণি সমাপনি-১৯৭৫ খ্রিঃ, লাউড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মণিরামপুর,যশোর।        

★মাধ্যমিক শিক্ষাঃ এসএসসি (বিজ্ঞান)-১৯৮১ খ্রিঃ,চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,মণিরামপুর,যশোর। 

★উচ্চশিক্ষাঃ বিএসসি(সম্মান) প্রাণিবিদ্যা-১৯৮৭ খ্রিঃ,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি বিএল কলেজ,খুলনা।এমএসসি (প্রাণিবিদ্যা-মাৎস্য শাখা), সেশন-১৯৮৮ খ্রিঃ,(সেশনজটে পরীক্ষা বিলম্ব),পাশের সাল-১৯৯১খ্রিঃ                             রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।  

★প্রিয় শিক্ষকঃ প্রফেসর ড. আব্দুল মোতালেব, প্রফেসর কে.এম আওরঙ্গজেব ও প্রফেসর তৌফিকুল ইসলাম,প্রাণিবিদ্যা বিভাগ,সরকারি বিএল কলেজ,খুলনা। 

★শিক্ষাজীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ ইন্টারমিডিয়েট ও অনার্স পর্যায়ের পড়ালেখার সময়কালে বেশিরভাগ সময়ে আর্থিক দৈন্যতার কারণে লজিং থেকেছি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের কারণে  তিন বছরের অনার্স  ও এক বছরের মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করতে সাত বছর সময় পার করতে হয়। এ সময়ে বহুবার ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষনা ও হল ভ্যাকান্টের ঘটনা ঘটে। ’৯০ এর স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে সক্রিয়ভাবে মিছিল ও পিকেটিংয়ের সময় সশস্ত্র বাহিনীর গুলিগুলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায়। এমনি অনেক ঘটনা রয়েছে।

✪কর্মজীবনঃ মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্টের অপেক্ষায় থাকাকালীন সময়ে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে সফলতার সাথে প্রি-সার্ভিস প্রশিক্ষণ শেষে চাকুরিতে যোগদান করেও বেশিদিন চাকুরিটি করা হয় নাই। এরপর খুলনার একটি ছাত্রাবাসে থেকে ১৪তম স্পেশাল বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি চলে কিন্তু সফল হতে না পেরে চাকুরি খুঁজতে থাকি। চাকুরির প্রচন্ড তাগিদে ১৬তম বিসিএসে প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার পরও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারী মাসে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রোগ্রাম অর্গনাইজার (পিও) হিসেবে যোগদান করি। মাত্র ছয় মাস চাকুরি করে আকষ্মিক সিদ্ধান্তে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে সরকারি চাকুরির আশায় ঢাকায় চলে আসি। কয়েকটি  প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকুরির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগ না পেয়ে অগত্যা পুনরায় বেসরকারি চাকুরির চেষ্টা করতে থাকি। অবশেষে কিশোরগঞ্জের একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করি। সেখানে মাত্র দুই বছর চাকুরি করার পর দুরত্বের কারণে এলাকায় চলে আসার প্রেষণা কাজ করতে থাকে। ১৯৯৪ সালে মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ চালু হলে জীববিদ্যা প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ০১ নভেম্বর ১৯৯৪ খ্রিঃ যোগদান করে সফলতার সাথে ৩১  আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করে অবসরে গিয়েছি।  

✪কর্মজীবনে বাঁধা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাঃ কর্মজীবনে সফলতার পাশাপাশি একজন নাগরিক সচেতন মানুষ হিসেবে অধিকার নিয়ে কথা বলতে যেয়ে বেশ কিছু বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।  যেটা আমার হিতৈষী ও শুভাকাঙ্খীদের সহযোগীতায় সহজে উত্তোরন পেয়ে স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করার পরিবেশ ফিরে পায়। 

✪পেশাগত জীবনঃ পেশাগত জীবনে সফলতার গল্প তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। তবে ১৯৯৮ সাল ও ২০০৪ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার মত ছোট অর্জন রয়েছে। তাছাড়া শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক, প্রধান পরীক্ষক, নিরীক্ষক, প্রশ্ন প্রনেতা ও মডারেশানের ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি অনেকবার। 

✪শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাঃ ১৯৮৬ সালে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবাহ পত্রিকায় অনিয়মিতভাবে ফিচার/আইটেম  নিউজ লেখনির মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু। এরপর বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় মাঝে মাঝে লেখালেখি করতাম। ১৯৯৪ সালে মণিরামপুরে কলেজে শিক্ষকতার সুবাদে নিয়মিতভাবে সাংবাদিকতা শুরু করি। যা এখনও চলমান রয়েছে। জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক ও আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক প্রবাহে কাজ করছি প্রায় দুই যুগ ধরে। তাছাড়া বহু নামীদামী জাতীয় ও আঞ্চলিক কাগজেও কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

✪সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতাঃ  মানুষের জন্য কাজ করার জন্য ১৯৯৭ সালে বে-সরকারি সংস্থা রুরাল কনসাসনেস ইউনিট (আরসিইউ) প্রতিষ্ঠা করে অদ্যাবধি সাধারন সম্পাদক তথা নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছি। দেশী-বিদেশী সাহায্য/অনুদান নিয়ে আরসিইউ সংস্থার মাধ্যমে সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছি। এ ছাড়াও বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস) মণিরামপুর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালন । 

★নাগরিক সংগঠন সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) মণিরামপুর উপজেলা শাখার ২০০৩ সাল থেকে দীর্ঘ সময়ে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। ২০১৫ সাল থেকে সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে আছি। 

★আন্তর্জাতিক বে-সরকারি সংস্থা দি হাঙ্গার প্রজেক্ট -বাংলাদেশ এর পেভ (পিপলস এ্যাগেনেস্ট ভায়োলেন্স এভরিহয়ার) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে দায়িত্বে আছি। 

✪শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ততাঃ দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অবদান। দুটি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন।  আরও তিনটা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। 

✪জীবন সদস্যঃ মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরি, যশোর ইনস্টিটিউট,মণিরামপুর উপজেলার খামারবাড়ী পাবলিক লাইব্রেরির জীবন সদস্য। এ ছাড়া মণিরামপুর উপজেলার হালসা আদর্শ মহিলা দাখিল মাদরাসার আজীবন দাতা সদস্য। 

✪বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনঃ মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরির সিনিয়র সহসভাপতি ও কার্যকরী সদস্য হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন। মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি,সহসভাপতি,সাধারন সম্পাদক ও নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগী সংগঠন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও কমিটির সদস্য হিসেবে দেড়যুগ ধরে দায়িত্ব পালন। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালন। এ ছাড়া উপজেলা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমিটির সম্পাদক,উপজেলা বিজ্ঞান ক্লাবের সম্পাদক,উপজেলা নারীও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, উপজেলা স্বাস্থ কমিটির সদস্যসহ বহু কমিটির সক্রিয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বতর্মানে আরসিইউ (রুরাল কনসাসনেস ইউনিট) সংস্থার নির্বাহী পরিচালক, সুজন এর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি,মণিরামপুর প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য,দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর পেভ প্রকল্পের পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজির) উপজেলা কো-অর্ডিনেটর, রিইব সংস্থার  উপজেলা সিএসও কমিটির সভাপতি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র উপজেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য ও মণিরামপুর সাহিত্য পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োজিত আছি।

✪জীবনের উল্লেযোগ্য সাফল্য-পুরস্কার, সম্মাননা বা সামাজিক ক্ষেত্রে  অবদানঃ 

শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সাল ও ২০০৪ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ শিক্ষকের স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ। শেঁকড়ের সন্ধ্যানে সংগঠনের উদ্যোগে সমাজকল্যান মূলক কাজের মূল্যায়নে সম্মাননা লাভ। মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরীর পক্ষ থেকে সম্মাননা, মণিরাামপুর ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবের উদ্যোগে সম্মাননা, রিইব সংস্থার পক্ষ থেকে সমাজের পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও অধিকার নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতি স্বরুপ সম্মাননা প্রদান।   

✪লেখালেখির শুরুঃ ছাত্রজীবন থেকে মণিরামপুর পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে প্রকাশিত দেয়ালিকা ও ম্যাগাজিনে স্বরচিত কবিতা প্রকাশ। অনার্স ১ম বর্ষে পড়াকালিন বিষয় ভিত্তিক ফিচার আইটেম অনিয়মিতভাবে পত্রিকায় লেখা শুরু করি। পত্রিকার পাতায় বড় আকারে ফিচার প্রকাশিত হলে  বেশ ভাল লাগতো । সেই অনুপ্রেরণায় লেখালেখির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং মাঝে মাঝে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় লিখতাম। 

✪কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ বা সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ততাঃ ১৯৯৪ সালে নিজ এলাকায় বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতার সুবাদে নিয়মিতভাবে সাংবাদিকতা শুরু করি।  সেই হতে বিরতিহীনভাবে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক কাগজে সাংবাধিকতা চলমান আছে। 

✪জীবনের শিক্ষাঃ মানুষকে ভালবাসা ও বিশ্বাস করা। আমাকে যিনি পছন্দ করেনা তার থেকে দুরে থাকা। যেখানে আমার কদর নেই,মন খারাপ না করে সেখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে সেখানে সময় দেওয়া । প্রকৃত শুভাকাঙ্খীদের চিনে তাদের সাথে সময় কাটানো। 

✪বর্তমান জীবনঃ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে মাছের চাষ,সব্জী চাষ ও গাছ-গাছালি রোপন ও তা পরিচর্চা করা এবং একটি ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নিয়মিত সময় দেওয়া । পাশাপাশি সাংবাদিকতায় ও সমাজউন্নয়ন ও সমাজকল্যানমূলক কাজে বেশি সময় দেওয়া। 

✪ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ এলোমেলো লেখালেখির পান্ডুলিপি এক জায়গায় করে বই আকারে প্রকাশ করার ইচ্ছা। আরসিইউ সংস্থার মাধ্যমে সমাজে পিছিয়েপড়া মানুষের মানবাধিকার এবং সর্বস্তরে মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিজেকে একজন কর্মী হিসেবে আজীবন সম্পৃক্ত রাখার একান্ত ইচ্ছা-আকাঙ্খা। 

✪জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রত্যাশাঃ আমার ক্ষুদ্র জীবনে মহান আল্লাহ আমাকে যেটুকু দিয়েছেন আমি তার জন্য কৃতজ্ঞ। আর যা পাইনি তার জন্য আমার কোন অভিযোগ নেই। মহান আল্লাহ একজন ভাল জীবনসঙ্গী,তিনটি সন্তান দিয়েছেন,আমাকে দীর্ঘ ৬০ বছরের জীবনে সুস্থ রেখেছেন তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ। পিতা-মাতা যতদিন বেঁচে ছিলেন চেষ্টা করেছি তাদের    দেখভাল করার।  আজ পরম মমতার বাবা-মাকে বারবার মনে পড়ছে। তারা পরলোকগত হবার পর থেকে এমন ভালবাসা আর কারোর কাছ থেকে আমি পায়নি। আমি তাঁদের আতœার মাগফিরাত করছি ও মহান আল্লাহর কাছে তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিবের জন্য প্রার্থনা করছি । 

✪মানুষ, সমাজ ও সম্পর্কে উপলব্ধিঃ  অধিকাংশ মানুষ বড্ড স্বার্থপর এবং অকৃতজ্ঞ। অতীতকে কেউ মনে রাখে না। আমি একজন প্রক্রিয়াশীল মানুষ। তাই তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় কেউ কেউ অখুশী হতে পারেন। তবে আমি জীবনে কারো ক্ষতি হোক এমন কিছু করি না।  চেষ্টা করি মানুষের কল্যাণে নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখা। আর এই নষ্ট সমাজে ভাল মানুষের কদর নেই বললেই চলে। ভাল মানুষ যারা তারা আতœমর্যদা বজায় রাখতে নিজেকে গুটিয়ে রখেছে। দেশের কিছু মানুষ সমাজ পরিবর্তনের কথা ভাবলেও প্রভাবশালীমহলের কারণে ঘুণে ধরা সমাজের মরিচিকা ঘুচাবার পথ আজও রুদ্ধ হয়ে আছে। 

✪উপসংহারঃ  ১৯৬৬ সালে গ্রামীণ জনপদে জন্মে হাটি-হাটি পা-পা করে দরিদ্র পরিবারের সেই ছেলেটিই একদিন জীবনের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাবে তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। জীবনে বেশী অর্জন নেই ঠিকই। তবে নানান সীমাবদ্ধতায় যেটুকু সফলতা পেয়েছি সে টুকুই বা কয়জনের ভাগ্যে জুটেছে?  পরিশেষে  আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই মহান আল্লাহর প্রতি। আলহামদুলিল্লাহ।

°°অধ্যাপক আব্বাস উদ্দীনের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত°°